জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত সোমবার ভোজ্যতেল আমদানিতে ১ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করায় পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে প্রায় ১০০ টাকা। এর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল আমদানিতে কোনো উৎসে কর ছিল না। পাইকারিতে মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দিন ধরে পণ্যটির খুচরা দাম পুনর্নির্ধারণে দেনদরবার করছেন আমদানিকারকরা।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উৎসে কর আরোপের গুঞ্জনে কয়েক দিন ধরেই পণ্যটির পাইকারি বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। প্রতি মণ খোলা পাম অয়েলের দাম রোববার ছিল ৬ হাজার টাকার মধ্যে। এনবিআর থেকে ঘোষণা আসার পর দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি দাম মণপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে ৬ হাজার ১০০ টাকায় উঠে গেছে। পাম অয়েলের পাশাপাশি সয়াবিনের দামও ৯০ টাকা বেড়ে লেনদেন হয়েছে মণপ্রতি ৬ হাজার ৬৯০ টাকা দরে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন, ভ্যাট নিবন্ধিত ভোজ্যতেল পরিশোধন শিল্পের মাধ্যমে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি, সানফ্লাওয়ার বীজ ও তেল এবং ভুট্টার তেল আমদানিতে উৎসে কর নির্ধারণের হার ১ শতাংশ হবে। এর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে এ পণ্যের আমদানিতে কোনো উৎসে কর ছিল না। সরকারি ঘোষণার পর পাইকারি বাজারগুলোয় মিলগেট থেকে সংগ্রহযোগ্য ও সরবরাহ আদেশ (এসও) পদ্ধতিতে ক্রয়যোগ্য ভোজ্যতেলের লেনদেন বেড়ে গেছে। ফলে পণ্যটির দাম পাইকারি বাজারে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এক মাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় দেশের বাজারে পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটার ১৯ টাকা কামিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ দাম ঘোষণা করে। তবে সয়াবিন তেল আগের মতোই লিটারপ্রতি ১৮৯ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ হয়।
জানতে চাইলে দেশের অন্যতম ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স) বিশ্বজিৎ সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উৎসে কর আরোপের ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে। এমনিতে সিঙ্গেল ডিজিট এক্সপোজার লিমিট জটিলতায় ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে পারছে না। এখন উৎসে কর আরোপের ফলে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চললেও এখনো উভয়পক্ষ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।’